সারাজীবন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার মানত করলে তার হুকুম
প্রশ্ন: আমার এক বন্ধু মানত করেছে যে, তার একটি সমস্যা যদি আল্লাহ তা’আলা সমাধান করে দেন, তাহলে সে সারা জীবন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখবে। এখন তার প্রশ্ন হল, নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো সুন্নত মানার ব্যাপারে এরকম শর্ত আল্লাহর কাছে দেওয়া ঠিক হবে কি না? যেহেতু সোমবার ও বৃহস্পতিবার নবিজি ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোজা রাখতেন। নাকি অন্য কোনো বিষয়ে মানত করলে ভালো হবে?
আর যদি মানত পুরা করতে না পারে, তাহলে কি হবে এবং কি করতে হবে?
উত্তর: যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো দিনে রোজা রাখার মানত করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিনই তার রোজা রাখা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে মানত পুরা করার জন্য সেদিনই রোজা রাখতে হবে। যদি সেদিন রোজা রাখার ব্যপারে শরীয়তের কোন নিষেধাজ্ঞা না থেকে থাকে। যেমন দুই ঈদের দিন ও আইয়ামে তাশরিকের তিনদিন। এ পাঁচদিনের কোনো একদিনে রোজা রাখার মনত করলেও রোজা রাখা যাবে না। বরং পরবর্তিতে যে কোন সময় তার কাজা আদায় করে নিতে হবে।
আপনার বন্ধু যেহেতু মানত করে ফেলেছে, তাই তাকে এ মানত অবশ্যই আদায় করতে হবে। এখন তা আদায় না করার সুযোগ নেই। সুতরাং তার জন্য প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা আবশ্যক। তিনি যেহেতু সারাজীবন রোজা রাখার শর্তারোপ করেছেন, তাই তাকে সারা জীবনই সপ্তাহের এ দুইদিন রোজা রাখতে হবে। শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোন কারণে এ দিনগুলোতে রোজা রাখতে না পারলে, তা অন্য কোনো দিন আদায় করে নিতে হবে। ভবিষ্যতে বার্ধক্যের কারণে যদি না রাখতে পারে, তাহলে প্রতি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে দু’বেলা খাবার খাওয়াবে কিংবা এক সদকায়ে ফিতির পরিমান টাকা বা খাদ্য ফিদিয়া হিসেবে আদায় করে দেবে। কোনো রোজা অনাদায় থেকে গেলে মৃত্যুর সময় নিকটাত্মীয়দের নিজ সম্পদ থেকে ফিদিয়া আদায় করে দেওয়ার অসিয়ত করে যাবে।
উল্লেখ্য, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা মুস্তাহাব। রোজা রাখলে সোয়াব আছে, না রাখলে গোনাহ নেই। সে হিসেবে এ দু’দিন কারো জন্য রোজা রাখা আবশ্যকও নয়। তবে কেউ যদি মানতের মাধ্যমে নিজের ওপর কোনো দিন রোজা রাখা আবশ্যক করে নেয়, তাহলে শুধু এ দু’দিন নয়; যে কোনো দিন আবশ্যক হতে পারে। আর এই আবশ্যকতা সুন্নতের কারণে নয়; বরং মানতের কারণে তৈরি হয়।
সূত্র: কিতাবুল আসল : ২ : ১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১ : ২০৯; তুহফাতুল মুলুক : ১৫০; তুহফাতুল ফুকাহা : ১ : ৩৪৪; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : ৯২; ফাতাওয়া রহিমিয়া : ৯ : ২৮
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন