মরণোত্তর দানকৃত চক্ষু বা অন্য অঙ্গ অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন বা ব্যবহারের হুকুম

প্রশ্ন: কেউ যদি (নাজায়েজ হওয়া সত্ত্বেও) মরণোত্তর দেহ বা চক্ষু দান করে, তাহলে সেটা অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তর: মরণোত্তর দেহ, চক্ষু অথবা অন্য কোনো অঙ্গ দান করা জায়েজ নেই। তেমনি গবেষণা বা নিজের মহত্ত্ব প্রকাশে কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান বা মেডিকেলে দান করাও একেবারেই জায়েজ নেই।
তবে কেউ যদি (নাজায়েজ হওয়া সত্ত্বেও) মরণোত্তর দেহ, চক্ষু বা অন্য কোনো অঙ্গ দান করে, তাহলে তা অন্যদের জন্য প্রতিস্থাপন বা ব্যবহার করা জায়েজ আছে কি না, এ ব্যাপারে আলেমদের দুটি মত পাওয়া যায়। অনেকের মতে অন্যদের জন্যও তা সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপন বা ব্যবহার করা জায়েজ নেই।
তবে কিছু সংখ্যক আলেম কয়েকটি শর্তের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিদের দানকৃত অঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। শর্তগুলো হল—
১. দাতার জীবদ্দশায় অনুমতির পাশাপাশি মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদেরও অনুমতি থাকতে হবে।
২. তার যে অঙ্গ নেয়া হবে, তা জীবিত ব্যক্তির শরীরে স্থাপন করলে জীবিত ব্যক্তি তার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যপারে প্রবল ধারণা থাকতে হবে।
৩. বিজ্ঞ ডাক্তারের এ কথা বলা যে, এতে জীবিত রুগীর যথাযথ কাজ হবে।
সুতরাং কোন জীবিত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে অনন্যোপায় হলেই দ্বিতীয় মতের উপর আমল করা যেতে পারে।

সূত্র: সুরা ইসরা : ৭০; মুআত্তা মালেক : ৪৫; সুনানে আবি দাউদ : ৩২০৭; সুনানে ইবনে মাজা : ১৬১৭; ফাতহুল বারি : ১১ : ৫৩৯; শরহে মুসলিম লিন্নববি : ১৪ : ১০৩; বিদায়াতুল মুজতাহিদ : ৪ : ১১২; বাদায়েউস সনায়ে’ : ৬ : ১১৯; আলবাহরুর রায়েক : ৮ : ৪০৩; আততাজ ওয়াল ইকলিল (মাওয়াহিবুয যালিল সহ) : ৩ :৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫ : ৩৬০

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় ফতোয়াসমূহ

গর্ভপাতের পর নামাজ

মুসাফির অবস্থায় জামাতে নামাজ এবং রাকাত সংখ্যা

দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে কী করবে?

কবর খননের সুন্নত পদ্ধতি

তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন ও অন্যান্য নফল নামাজ জামাতে পড়ার বিধান